ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাসের নির্বাচন স্থগিত, প্রত্যাহারের দাবি ২৫ প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহন, অক্টোবর ২০, ২০২৬

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ২৫ প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে কোনো কারণ উল্লেখ না করে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এতে প্রার্থী ও ভোটাররা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৪ অক্টোবর রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। তবে ১৯ অক্টোবর পূজার ছুটির আগের শেষ কার্যদিবসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকের ভিত্তিতে নির্বাচন বোর্ড ভোটের সব কার্যক্রম স্থগিত করে নোটিশ জারি করে।

প্রার্থীদের দাবি, স্থগিতাদেশের নোটিশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁদের বক্তব্য শোনার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে একজন সদস্য নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। প্রার্থীরা সিদ্ধান্তটিকে অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

প্রার্থীরা জানান, নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ব্যালট নম্বর বরাদ্দ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। সমিতির ৪১৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৭৯ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার। তাঁদের অনেকে ইতোমধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন এবং হোটেল বুকিং দিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

তফসিল অনুযায়ী প্রচারণায়ও মাসের পর মাস সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন প্রার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, বারবার নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশের কারণে ভোটারদের আবার ভোটকেন্দ্রে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

স্থগিতাদেশের প্রতিবাদে ১৯ জন প্রার্থী যৌথভাবে এবং আরও ছয়জন পৃথকভাবে বাণিজ্য সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ২৪ অক্টোবর ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্তের কারণ ও আইনগত ভিত্তি লিখিতভাবে জানানোর দাবি জানানো হয়েছে।

Nagad

নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী এম. এ. সাত্তার খান বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানি কমানো ও রপ্তানি বাড়ানোর দিকনির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোও এ খাতের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। তাঁর মতে, দেশে উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানি কমানোর সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই শিল্পের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

এম. এ. সাত্তার খানের অভিযোগ, আমদানিকারকদের একটি গোষ্ঠী সমিতির নেতৃত্ব দখল করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাঁর দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি পদপ্রার্থী মূলত আমদানিকারক এবং তিন মাস আগে সমিতির সদস্য হয়েছেন। ওই প্রার্থী ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর নিজস্ব কারখানা এবং সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাত্তার খান আরও বলেন, ভোটে জয়ের সম্ভাবনা না থাকায় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। তবে তাঁর দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ভোটারদেরই। নির্ধারিত ২৪ অক্টোবর ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা না হলে তাঁরা সর্বোচ্চ আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।