সোহাগ হত্যা: টিটনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, যা বললেন

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৫

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. টিটন গাজীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াস এ আদেশ দেন। এর আগে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন টিটনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক টিটন গাজীকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কিছু বলতে চান কি না। জবাবে টিটন বলেন, ‘জি স্যার, আমার কোনো আইনজীবী নেই। আপনি যেই ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছেন, সেখানে আমাকে দেখা গেলেও আমি কাউকে আঘাত করিনি। আমাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম, কোনো হুকুমও দিইনি। আমি নির্দোষ স্যার।’

পরে শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ১টার দিকে কোতোয়ালি থানার জিন্দাবাহার এলাকা থেকে টিটন গাজী (৩৩) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

Nagad

গত ৯ জুলাই বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পুরো ঘটনা ধরা পড়ে সিসিটিভি ফুটেজে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে নির্মমভাবে মারধর ও কুপিয়ে ফেলার পর তার নিথর দেহ রাস্তায় টেনে এনে একের পর এক লাথি, ঘুষি ও বুকের ওপর লাফিয়ে বর্বরতা চালায়। শেষে তার মাথা ও শরীরের ওপর ছোড়া হয় বড় বড় পাথর। শতাধিক পথচারী দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

ঘটনার পর নিহত সোহাগের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ও পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সোহাগ। তবে ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিতে মহিন ও টিটু নামের দুই ব্যক্তি সোহাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। তারা ব্যবসার ৫০% অংশ দাবি করেন, না হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেন। এর থেকেই সোহাগের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং শেষমেশ এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।