গাজায় খাবারের লাইনে দাঁড়ানো ৩৪ জনসহ একদিনে নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একদিনের হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন সহায়তা কেন্দ্রের সামনে খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। শনিবার (১২ জুলাই) এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাফাহ শহরের আল-শাকুশ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্নাইপারদের গুলিতে ওই ৩৪ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন খাবারের আশায় অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ।

এক প্রত্যক্ষদর্শী সামির শায়াত বলেন, ‘যে ব্যাগে খাবার নেওয়ার কথা ছিল, সেটাই হয়ে গেল মরদেহ মোড়ানোর কাপড়।’
আরেকজন মোহাম্মদ বারবাখ বলেন, ‘ওরা আমাদের প্রতারণা করে ব্যাগ হাতে দিতে দেয়, তারপর শিকারির মতো গুলি চালায়।’

এই হামলায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে ‘মানব হত্যাযন্ত্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন অনেকে।

এছাড়া, গাজা শহরের বিভিন্ন স্থানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর ২৫০ বার হামলায় আরও বহু মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে তুফাহ এলাকার এক বাসায় বোমা হামলায় ৪ জন, জাবালিয়ায় দুই আবাসিক ভবনে ১৫ জন, শাতি শরণার্থী শিবিরে ৭ জন এবং বেইত হানুনে অন্তত ৫০টি বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

আল-আকসা হাসপাতালের মুখপাত্র খালিল আল-দেগরান জানান, ‘আমরা আর রোগীদের চাপ সামলাতে পারছি না। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ভয়াবহ ঘাটতি চলছে।’

Nagad

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জিএইচএফ কেন্দ্রগুলোর সামনে হামলায় মে মাসের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০০ জন নিহত ও ৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানায়, গাজায় অপুষ্টিতে ৬৭ শিশু মারা গেছে। বর্তমানে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৬.৫ লাখ শিশু মারাত্মক অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির ঘাটতির কারণে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ম্যাপ’ বা দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। হামাসের দাবি, রাফাহসহ প্রায় ৪০ শতাংশ গাজা ভূখণ্ড দখলে রেখে ইসরায়েলের প্রস্তাব মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

এক হামাস প্রতিনিধি বলেন, ‘এই মানচিত্রে সম্মতি দিলে গাজার অর্ধেককে বন্দিশিবির হিসেবে বৈধতা দেওয়া হবে।’

তবে আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। কাতারে রোববার থেকে ফের আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সূত্র।