দেশে ৪ শিশুর শরীরে বার্ড ফ্লু শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫

শে চার শিশুর শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

দেশে চার শিশুর শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স এক থেকে আট বছরের মধ্যে।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার গবেষণা কৌশল প্রণয়ন করেছে। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার আইসিডিডিআর,বি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশীদারদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশের জন্য জাতীয় গবেষণা কৌশল চূড়ান্ত করা হয়।

সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকির কারণ চিহ্নিতকরণ, ভাইরাস-হোস্ট সম্পর্ক, প্রাণী-মানব সংযোগ এবং টিকার কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা জরুরি। এজন্য শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশে ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন মানুষের মধ্যে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হলেও ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই শনাক্ত হয়েছে চার জন। দেশে শনাক্ত হওয়া মোট ১২ জনের মধ্যে ৭ জনই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। ২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া চারজনই ছিল এক থেকে আট বছর বয়সী শিশু, যা শিশুদের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির প্রতি নির্দেশ করে।

আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঢাকা ও গাজীপুরের লাইভ বার্ড মার্কেট বা জীবিত হাঁস-মুরগির বাজার থেকে সংগৃহীত বাতাসের নমুনার ৯১ শতাংশ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা পজিটিভ। এসব বাজারকে মানুষের মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালে এসব বাজারে পাওয়া মৃত মুরগির প্রায় অর্ধেকই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সাবটাইপ এইচফাইভে আক্রান্ত ছিল।

Nagad

গবেষণার অংশ হিসেবে করা একটি সিস্টেমেটিক রিভিউতে দেখা যায়, পোলট্রি খাতে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার প্রধান ঝুঁকির কারণ হচ্ছে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি। এর মধ্যে রয়েছে অসুস্থ পাখিকে আলাদা না রাখা, বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না করা এবং পোলট্রি রাখার জায়গায় অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি।