ক্ষমতাচ্যুত শাসকরা দেশ ছেড়ে পালায় কোথায়? কতজন পালিয়েছে?
বিশ্ব ইতিহাসে বহু সরকারপ্রধান রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনবিক্ষোভ বা বিদেশি চাপের কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি তীব্র জনবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে হেলিকপ্টারে দেশ ত্যাগ করেছেন। গুঞ্জন উঠেছে তিনি সম্ভবত দুবাই বা ভারতে আশ্রয় নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটির দ্য জার্নাল অব পলিটিক্স-এ আবদেল এসক্রিবা এবং ড্যানিয়েল ক্রাকমারিক এক গবেষণা মূলক নিবন্ধে লিখেছেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচাররা পালিয়ে যেসব দেশে আশ্রয় নিতে চায় সেখানে বেশ কয়েকটি বিষয় বিষয় কাজ করে। এগুলো হচ্ছে— একটি দেশের সাথে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় মিল কতটুকু আছে। ভৌগোলিক দূরত্ব কতটা। দেশটি অতীতে কোন স্বৈরাচারদের আশ্রয় দিয়েছে কী না। দেশটি সামরিকভাবে শক্তিশালী কী না।
পুরাতন উদাহরণগুলো:
ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ (ইউক্রেন) – গণবিক্ষোভের কারণে ২০১৪ সালে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন।
ইদি আমিন (উগান্ডা) – ১৯৭৯ সালে জনরোষের মুখে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।
বেন আলী (তিউনিসিয়া) – গণআন্দোলনের পর ২০১১ সালে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।
আশরাফ ঘানি (আফগানিস্তান) – ২০২১ সালে তালেবান দখলের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেন।
ফার্দিনান্ড মার্কোস (ফিলিপিন্স) – ১৯৮৬ সালে জনগণের প্রতিবাদের মুখে গুয়ামে আশ্রয় নেন।
মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি (ইরান) – ইসলামী বিপ্লবের সময় মিশর, মার্কো, আমেরিকা ও পানামার মধ্য দিয়ে পালিয়ে যান।
নওয়াজ শরীফ ও পারভেজ মুশারফ (পাকিস্তান) – রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতাচ্যুতির পরে সৌদি আরব ও দুবাইয়ে আশ্রয় নেন।
থাইল্যান্ডের থাকসিন শিনাওয়াত – সেনা অভ্যুত্থানের পর লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসনে ছিলেন।
চার্লস টেলর (লাইবেরিয়া) – গৃহযুদ্ধের চাপ ও আন্তর্জাতিক চাপে নাইজেরিয়ায় আশ্রয় নেন।
গোটাবায়া রাজাপাকশা (শ্রীলঙ্কা) – গণআন্দোলনের মুখে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেন।
শেখ হাসিনা (বাংলাদেশ) – ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে সামরিক হেলিকপ্টারে দেশ ত্যাগ করেন।
বাশার আল আসাদ (সিরিয়া) – বিদ্রোহী হামলার পর রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
গবেষকরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসকরা সাধারণত ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মিল, ভৌগোলিক দূরত্ব ও দেশের সামরিক শক্তি বিবেচনা করে আশ্রয় খুঁজে নেন। অধিকাংশই গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে এ উদ্দেশ্যে পছন্দ করে না।
এভাবে বিশ্বের ইতিহাসে দেখা যায়, স্বৈরাচার ও ক্ষমতাধারীরা যখন বিপদের মুখে পড়েন, তখন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

