রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে লজ্জা লাগে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে লজ্জা লাগে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড, যা যন্ত্রাংশ তৈরি ও যুক্তকরণে যাত্রা শুরু করেছিল, এখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড, যাদের গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা উচিত ছিল, তারা এখন শুধু গাড়ির ফিল্টার বানানোর চুক্তি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখে লজ্জা লাগে।

তিনি শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও শিল্প এলাকায় এডিসন প্রাইম ভবনে ‘রোড টু মেড ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড অ্যাগ্রো মেশিনারি ফেয়ার ২০২৫’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনে যে বৈচিত্র্য ছিল, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা বছরে কয়েক লাখ মোটরসাইকেল বানালেও একটাও ইঞ্জিন বানাতে পারিনি। বিশ্বে যেখানে ড্রোন ও রোবট দিয়ে কৃষির চাষাবাদ হয়, সেখানে আমরা পাওয়ার টিলার ও কম্বাইন হারভেস্টারের সঙ্গেই পড়ে আছি।

এ সময়, বাণিজ্য উপদেষ্টা দেশের শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, আমাদের শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গেলে সাময়িক সময়ের জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করতে হবে এবং পরিষ্কার টার্গেট নিতে হবে।

এছাড়া, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আমরা রেমিট্যান্স ও পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, তবে এসব খাত অর্থনীতির মূল চালক হিসেবে দীর্ঘকাল থাকবে না। এখন নতুন করে কৃষি, এসএমই এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “এখন দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে অর্থনীতির দিকনির্দেশনা তৈরি করা। রাজনৈতিক ঐকমত্য বা এলডিসি নিয়ে আলোচনা নয়, আমাদের একটি ন্যাশনাল মুড দরকার।”

Nagad

উল্লেখযোগ্য, ‘রোড টু মেড ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড অ্যাগ্রো মেশিনারি ফেয়ার ২০২৫’ প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এবং সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।