সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পথে অগ্রগতি, পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছে প্রশাসক
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে একীভূতকরণ-পরবর্তী কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগের দিন রোববার পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, পর্যায়ক্রমে একীভূত হওয়া সব ব্যাংক থেকেই প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে। যে ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে, সেই ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসক প্রত্যাহারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, পরিচালনাগত দায়, পুনর্গঠন কার্যক্রম এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হবে।
আর্থিক সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির নামে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর চলতি বছরের ১৬ জুলাই ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. আবেদুর রহমান সিকদার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

