গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে শুরু হলো নির্বাচন
কঠোর নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধের মধ্যে গৃহযুদ্ধপীড়িত মিয়ানমারে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন। পাঁচ বছর আগে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর সামরিক জান্তা সরকারের অধীনে এটিই প্রথম নির্বাচন, যাকে তারা ‘গণতন্ত্রে উত্তরণের’ অংশ বলে দাবি করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
জান্তা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে মাসব্যাপী ও ধাপে ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে এ নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
এনএলডি নিষিদ্ধ, সুচি কারাগারে
এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না দেশটির জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। দলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে তারা। একই সঙ্গে সুচি এখনও কারাগারে, যেখানে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমা কূটনীতিক, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ইতোমধ্যেই এই নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, বিরোধী দল ও মত দমনের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে নতুন রূপে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
সামরিকপন্থিদের জয় প্রায় নিশ্চিত
বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না, ফলে দেশের বড় একটি অংশ কার্যত এই নির্বাচনের বাইরে রয়ে গেছে।
ইয়াংগনসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে ভোট
জান্তা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে তিন ধাপে নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে। আজকের ভোটের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াংগন, মান্দালয় ও রাজধানী নেইপিডু।
ইয়াংগনের কামায়ুত শহরে একটি ভোটকেন্দ্রে প্রথম দিকে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। ৬৩ বছর বয়সী ভোটার বো সাউ বলেন,
‘নির্বাচন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।’
তবে সব ভোটারের মত এক নয়। দুই মাস ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা মো মো মিন্ট নামের ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন,
‘এই নির্বাচন কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না। যারা আমাদের জীবন ধ্বংস করছে, তাদের আয়োজিত ভোটকে আমরা কেন সমর্থন করব?’
দীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতিহাস
মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর বেশিরভাগ সময়ই দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। কেবল এক দশক বেসামরিক সরকারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে এনএলডির বড় জয়ের পর ২০২১ সালে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

