এআই ব্যবহার করে সহিংসতা হচ্ছে, বন্ধে সরকার ব্যর্থ: ড. দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্, জানুয়রী ৭, ২০২৬

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ডিজিটাল রূপান্তর একদিকে দেশকে প্রগতিশীল করলেও অন্যদিকে বৈষম্যও সৃষ্টি করেছে। এবারের নির্বাচনে নতুন একটি উদ্বেগজনক উপাদান হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সহিংসতা ও ঘৃণামূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এসব বন্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি, সরকারও এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হলেও একটি একীভূত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা জরুরি। তবে এই তথ্যভান্ডার নির্বাচন কমিশন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি স্বায়ত্তশাসিত, নজরদারিভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের অধীনে রাখা উচিত। পাশাপাশি নতুন সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশকে আগামী সরকারকে বৈধতা দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও আগামী নির্বাচনে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও প্রথাগত কর্মসংস্থানে সংকট দেখা দিয়েছে। চব্বিশের আগস্ট আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে এই মাধ্যম কতটা শক্তিশালী। ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, সুশাসন ও কার্যকর গণতন্ত্র ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের জন্যও গণতন্ত্র অপরিহার্য। তবে বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়, যার ফলে অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, দুর্নীতি ও ঘুষ থেকে বের হওয়ার একটি কার্যকর উপায় হলো ডিজিটাল পদ্ধতির বিস্তার। এজন্য তরুণ আইটি উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

Nagad

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, শুধু অটোমেশন বা ডিজিটালাইজেশন করলেই হবে না, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। অন্য দেশগুলো যেখানে সিলিকন ভ্যালিতে দক্ষ জনবল তৈরি করেছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ই-কমার্স খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা ও সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান ঘানি, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলীলী, বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ ও নারী উদ্যোক্তা তাজমিন নাসরিন।