‘চাঁদা না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, লুট

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। সালমানের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্টুডিওটির এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন হঠাৎ সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে হামলায় স্টুডিওর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে বিমানে ঢাকায় এসে পরে স্টুডিওতে যান তিনি। সেখানে ক্ষয়ক্ষতি দেখে ফেসবুক লাইভে ঘটনার কথা জানান।

Nagad

সালমান বলেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ নানা কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব মালামাল নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি তিনি।

ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য দেশে এমন স্টুডিও খুব বেশি নেই। স্টুডিওটি নষ্ট হওয়ায় সামগ্রিকভাবেই ক্ষতি হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’

তবে সালমানের এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সালমান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ সালমান জানান, স্টুডিওটি তার কাছে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল না; এর সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজ জড়িয়ে ছিল। স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি থেমে যেতে চান না।

তার ভাষায়, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।