অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য, আইফোনের লোভে ৭ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আইফোনের লোভে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও তৈরির সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে আইফোন নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তিন জবানবন্দির মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তুহিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল। অপ্রতিম তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ছবি তুলতে ও টিকটক ভিডিও বানাতে যেত।

তুহিনের দাবি, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাঁর ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোরের লোভ হয়। ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে তাদের মধ্যে দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

দোকানে কর্মরত কিশোরটির জবানবন্দিতেও ওই বৈঠকের কথা এসেছে। তবে সে পরিকল্পনার মূল দায় তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য, আইফোনের জন্য তুহিনই অপ্রতিমকে মারার পরিকল্পনা করেন।

Nagad

অন্য কিশোরের জবানবন্দিতেও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার এক বন্ধু তাকে জানায়—তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।

অর্থাৎ তিন জবানবন্দির বর্ণনায় একটি বিষয়ে মিল রয়েছে-হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া হয়নি; আইফোনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ঘটনার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয় ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে। অপ্রতিম তাকে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টের ঠিকানা দেয়। পরে টিকটকের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং মুঠোফোনে কথাবার্তার পর পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে পাহাড়ে নেওয়া হয়। তুহিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা করে তাকে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। জায়গাটি নির্জন এবং সেটি তাঁর চাচা শাহ আলমের পাহাড় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তুহিন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি জানিয়েছে, দুপুরের পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে সে পাহাড়ে যায়। যাওয়ার আগেই তাকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও প্রায় একই। সে জানিয়েছে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। এরপর তারা পাহাড়ে গিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।