মরিয়মের আত্মহত্যা: আপসনামায় যে তিন শর্ত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৯ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১, ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হয়েছে। মরিয়মের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে দেওয়া আপসনামায় আসামিদের জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আপসনামাটি দাখিল করা হয়। এতে তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আপসনামার তিন শর্ত

আপসনামায় বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না।

দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, জামিনের পর দুই পরিবার আগের মতো পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।

তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী, মামলার বিচার ও তদন্তের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ নিরপেক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

Nagad

আপসনামায় মরিয়মের বাবা আরও উল্লেখ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ন্যাম ভবনের বাসায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। মেয়ের জামাইয়ের বাসায় ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিক সন্দেহ থেকে তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। পরে বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, গাজী নজরুল ইসলাম বা মাকসুদা ইসলামের কোনো প্ররোচনা কিংবা কার্যকলাপের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি—আপসনামায় এমন দাবি করা হয়েছে।

আপসনামায় আরও বলা হয়, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সমঝোতাটি করা হয়েছে। দলিলে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহকে প্রথম পক্ষ এবং আসামিপক্ষের স্বজন মো. আব্দুল হামিদ মোড়লকে দ্বিতীয় পক্ষ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি

তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপসনামার বিরোধিতা করে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলা হওয়ার পর এ ধরনের আপসনামা দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেবেন এবং জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও বলেছে, বাদী ও আসামিরা নিকটাত্মীয় হওয়ায় কোনো ধরনের চাপের কারণে আপসনামাটি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।

শুনানি শেষে আদালত মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

মামলার পটভূমি

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পর নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওবায়দুর রহমানকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এজাহারে মরিয়মকে বিয়ের পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পরবর্তী আপসনামায় মরিয়মের বাবা দাবি করেছেন, আসামিদের কোনো প্ররোচনা বা কার্যকলাপের কারণে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই চূড়ান্ত বিষয় নির্ধারণ করবে।