যাই হোক না কেন, গাজা ছাড়ব না – ফিলিস্তিনিদের প্রতিশ্রুতি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহন, ফেব্রুয়ার ৬, ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে ওই ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার এমন ঘোষণার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনাকে ‘উল্লেখযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সৌদি আরব, চীন, রাশিয়া, স্পেনসহ একাধিক দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এর নিন্দা জানিয়েছে। গাজার ফিলিস্তিনিরাও দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে বলেছেন, “যাই হোক না কেন, আমরা গাজা ছাড়ব না।”

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে অংশ নেবে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, গাজার বিষয়ে ‘সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত’ রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এদিকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন এবং হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলকে ভালোবাসেন এবং সেখানে সফরের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি গাজা, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও তিনি যেতে চান, যদিও নির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্পের দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থানান্তর করে গাজার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেওয়া হলে সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ বসবাসের সুযোগ পাবে এবং নতুনভাবে অঞ্চলটি পুনর্গঠিত হবে।

Nagad

ট্রাম্পের প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না। তারা এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে, নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনপন্থিরা বিক্ষোভ করেছে। গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতা উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ৬১,৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এদিকে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি আরব।

ট্রাম্পের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিলিস্তিনি জনগণের মাতৃভূমি থেকে তাদের জোরপূর্বক সরানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা বরাবরই সোচ্চার থাকবে।