গাজায় অনাহারে মৃত্যু ১১৫ জনে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৬২
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) আরও ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন নিহত হয়েছেন খাদ্য সহায়তা সংগ্রহের সময়। একই দিনে অপুষ্টিজনিত কারণে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৫ জনে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আল জাজিরা জানিয়েছে, চলমান সংকটে উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ইসরায়েল মার্চ থেকে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে এবং মে মাসের পর সীমিত পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দেয়। এতে চরম খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) জানায়, পরিবারগুলো চরম দুর্বল অবস্থায় আছে, এমনকি বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে দেখভাল করতে পারছেন না।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা (OCHA) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ত্রাণ যাচাইয়ে বাধা দিচ্ছে, ফলে সহায়তা বিলম্বিত হচ্ছে।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৬০-এর বেশি সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান কাজজা ক্যালাসকে জরুরি বৈঠক আহ্বানের আহ্বান জানিয়েছেন।
আয়ারল্যান্ডের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য লিন বয়লান আল জাজিরাকে বলেন, ইউক্রেনের তুলনায় ফিলিস্তিনিদের জীবনের মূল্য অনেকটা কম বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, গাজার শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, হামাসের অগ্রগতি না থাকায় তার দল কাতারে চলমান আলোচনা থেকে সরে এসেছে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আন্তরিকভাবে শান্তি আলোচনায় আগ্রহী এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে প্রস্তুত।
এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি।

