কর্ণফুলী টানেল দুর্নীতি: ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল প্রকল্পে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন— সেতু বিভাগের সাবেক সচিব ও নির্বাহী পরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত) খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (অবসরপ্রাপ্ত) কবির আহমদ, এবং সাবেক পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আলীম উদ্দিন আহমেদ।
অপ্রয়োজনীয় কাজে সরকারের ৫৮৫ কোটি টাকা ক্ষতি
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, অভিযুক্তরা নিজেদের ও অন্যদের আর্থিকভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে তিনটি অপ্রয়োজনীয় কাজ যুক্ত করেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষা করেই এই কাজগুলো প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে সরকারের প্রায় ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যে তিনটি কাজ যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো-পরিষেবা এলাকা, পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার এবং একটি ট্যাগ বোট।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না এবং বিশেষজ্ঞরা এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেননি। অথচ সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে এসব কাজ অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদন দেওয়া হয়, যা জনগণের বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় যানবাহন চলাচলের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, বাস্তবে তার সামান্য অংশই পূরণ হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সময়ে টানেল দিয়ে মাত্র ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৯টি যানবাহন চলাচল করেছে, যা সম্ভাব্যতার মাত্র ১৩.৫৯ শতাংশ।
এই সময়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা, অথচ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে সরকারের গড়ে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
দুদক আরও জানায়, আসামিরা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ), ২০০৬ এর বিধান লঙ্ঘন করে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে সরকারের ৫৫ লাখ ২১ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন। ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর এটি উদ্বোধন করা হয়। তবে প্রকল্পটির বিপুল ব্যয় এবং প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রার ব্যর্থতা এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

