ছাগল-কাণ্ডের মতিউরের ‘গোপন বৈঠক’, ১১ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
‘ছাগল-কাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে আদালত থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে ফেরানোর পথে অনৈতিকভাবে গোপন বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও ১০ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত এক অফিস আদেশে পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই আবুল কাশেম, কনস্টেবল মনিরুজ্জামান, কবির হোসেন, ইমরান, নির্জন খান, শামীম আলম, রনি হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তানভির রহমান, আবু সাইদ মিয়া ও রবীন্দ্র দাস।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট কিশোরগঞ্জ কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সৈয়দনগর এলাকার নিরালা হাড্ডি নামের একটি রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি করেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় মতিউর রহমানকে একটি আলাদা কক্ষে বসিয়ে খাবার খাওয়ানো হয় এবং এক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ। তদন্তে স্কর্ট দলের দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গ প্রমাণিত হয়। ফলে পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল ১৯৪৩ এর প্রবিধান অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত অবস্থায় তারা নিয়মিত পুলিশ লাইন্সে হাজিরা দেবেন এবং বিধি মোতাবেক বেতন-ভাতা পাবেন।
এর আগে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই যাত্রাবিরতির ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে মতিউরকে আলাদা কক্ষে বসানো এবং পুলিশের ঢিলেঢালা দায়িত্ব পালনের চিত্র উঠে আসে।
উল্লেখ্য, গত বছর কোরবানির আগে ছেলেকে ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কিনে দেওয়ার ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন মতিউর রহমান।

