ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্, অক্টোবর ২০, ২০২৫

নিহত জোবায়েদ হোসাইন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হত্যার সময় দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের একজনের গায়ে কালো এবং অন্যজনের গায়ে গোলাপি রঙের টি-শার্ট ছিল।

রোববার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির একটি বাসার সিঁড়ি থেকে জুবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাসাতেই টিউশনি করাতে যেতেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজটি অস্পষ্ট হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া যুবকদের একজন জুবায়েদের টিউশনি করানো ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ড হতে পারেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফুটেজ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করছে তদন্ত দল এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে কে বা কারা জড়িত তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, যারা পালিয়ে গেছে তারাই হত্যাকারী। যে পরিবারে জুবায়েদ টিউশনিতে যেত, তারাও সন্দেহের বাইরে নয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

Nagad

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতায় এখন দেশজুড়ে খুন-খারাপি বেড়ে গেছে। আমরা জুবায়েদ হত্যার দ্রুত বিচার চাই।

এদিকে, রাত ১১টার দিকে জুবায়েদের টিউশনি করা ছাত্রী বর্ষাকে প্রটোকল মেনে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় জুবায়েদকে। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পিবিআই ছয় ঘণ্টা তদন্ত চালিয়ে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছে।