দেশে অবাধে মোবাইল ফোন ক্লোনিং হচ্ছে, অপরাধ দমনে এনইআইআর চালু জরুরি
দেশে মোবাইল ফোন ক্লোনিং এবং অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট ব্যবহারের কারণে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এসব অপরাধ দমন, বৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারের নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে জানান বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ‘বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে এনইআইআর-এর গুরুত্ব’ বিষয়ে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, হ্যান্ডসেটের কোয়ালিটি নেটওয়ার্কের কোয়ালিটিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। আমরা অনেক সময় অপারেটরদের দোষারোপ করি, কিন্তু চোরাই ও নকল ফোন নেটওয়ার্কে বড় সমস্যা তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ পথে আসা ফোন ও বিভিন্নভাবে আসা ফোনের কারণে অপরাধী শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এনইআইআর চালু হলে এ সমস্যা দূর হবে। সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ-এটা বন্ধ হওয়া দরকার।
সেমিনারে বক্তারা মোবাইল খাতের নানা তথ্য তুলে ধরেন। দেশে ব্যবহৃত ২১ লাখ আইফোনের মধ্যে ২০ লাখ দেশে আসে অবৈধ পথে। দেশে উৎপাদিত ২৩ লাখের মধ্যে ৬০ শতাংশ ফিচার ফোন। আবার একটি আইএমইআইয়ে ১০ লাখের বেশি ফোন একটি নেটওয়ার্কে জড়িত। এসব ফোন থেকেই এমএফএস জালিয়াতি ও নানা অপরাধে ব্যবহার করছে অপরাধীরা।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অ্যাডিশনাল ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, অনিবন্ধিত ফোন ব্যবহারের কারণে অপরাধীদের শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হলে এই সমস্যা দুর হবে। হারানো মোবাইল সেট খুঁজে পাওয়ার কাজও অনেক সহজ হবে।
বিটিআরসির মহাপরিচালক আমিনুল হক জানান, এনইআইআর চালুর পূর্বের সব ফোন বৈধতা পাবে। এরপর থেকে ফোন বদলের ক্ষেত্রে ইউএসএসডি ব্যবহার করেও সিমের শেষ চার ডিজিট ব্যবহার করে ডিরেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। এ ছাড়াও গ্রে ফোন এক মাসের মধ্যে বৈধ করার সুযোগ পাবেন গ্রাহক।
একই সঙ্গে অব্যবহৃত ফোনের সিম ১৬ তারিখের আগে সিম চলু করা এবং নতুন ফোন কেনার আগে আইএমইআই নম্বর ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি। বাজারে থাকা গ্রে মার্কেটের ফোন যে কোন সময় আত্তীকরণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে এনইআইআর সফটওয়্যারে।
স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ব্যবসায় সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। এক মাসের মধ্যে মোবাইল ইমপোর্ট করতে পারেন। তাই এখানে সিন্ডিকেট হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশ্বে ২৫০ এর মতো দেশী-বিদেশী ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন রয়েছে। আমদানির লাইসেন্সের আবেদন করে যে কেউ আমদানি করতে পারে। ম্যাক্সিমাম এক মাসের মধ্যে কিছু ডকুমেন্ট ফিলআপ করে আমদানির লাইসেন্স নিতে পারেন। ব্যবসা করতে পারেন, ফ্যাক্টরি করতে পারেন। এটা একদম সহজ। সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই।
বক্তারা বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে মোবাইল বাণিজ্য কোনো সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ক্রেতারা ন্যায্য দামে হ্যান্ডসেট কেনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ব্র্যান্ড নিউ ফোনের দাম সাশ্রয়ী করতে রাজস্ব কাঠামো পুনর্বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান, এবং সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সভাপতি সমীর কুমার দে।
সেমিনারের অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন এনবিআরের প্রথম সচিব রইছ উদ্দিন খান, এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ, মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু, সিনেসিস আইটির সিএসও আমিনুল বারী সৌরভ, এবং নগদের ভিপি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

