দামের তোয়াক্কা নেই, এলপিজির দাম আরও বেড়েছে-২২০০ টাকায়ও মিলছে না
রাজধানীতে লাইনের গ্যাস না থাকা বাসাবাড়িগুলোর জন্য রান্নার একমাত্র ভরসা এলপিজি সিলিন্ডার। কিন্তু কোনো সরকারি ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে এলপিজির দাম এক হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। যেখানে আগে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার পাওয়া যেত ১২৫৩ টাকায়, সেখানে এখন তা ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে তদারকি না থাকায় সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণত মাসে মাসে ২০ থেকে ৫০ টাকা দামের হেরফের হলেও এবার কয়েক দিনের ব্যবধানে একলাফে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও সিলিন্ডার পেতে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
বাংলামোটর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার চা বিক্রেতা খলিল বলেন, ‘গতকাল যে সিলিন্ডার ১৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটার দাম দোকানি আজ চাইছে ২১০০ টাকা। আজ আবার সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। দোকান চালাতে হলে গ্যাস তো কিনতেই হবে।’
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান মিন্টু নামের আরেক ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে বৈদ্যুতিক হিটারে রান্না করেছি ভেবেছিলাম দাম কমবে। কিন্তু আজ ২২০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।’
মগবাজার, বাংলামোটর, নিউমার্কেট, আজিমপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। দোকানিরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় তারা নিজেরাও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। ডিসেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২৫৩ টাকা, যা আগামী ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। ওইদিনই জানুয়ারি মাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করবে বিইআরসি।
তবে সরকারি কোনো ঘোষণার আগেই খোলা বাজারে দামের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।
বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানান, সরবরাহ ঘাটতির কারণে এলপিজির দাম হঠাৎ বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিদপ্তরকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সময়মতো এলসি খুলতে না পারায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এর ফলেই বাজারে হঠাৎ সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে।

