বিশ্বকাপে এআই, সেন্সর বল ও রোবট প্রযুক্তি: আরও যে নতুন প্রযুক্তি
ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ৩৯ দিনের এই মহাযজ্ঞ। সর্বাধিক দল অংশগ্রহণের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার টুর্নামেন্টটিকে ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে জানিয়েছে ফিফা।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ পরিচালনা আরও নির্ভুল এবং দর্শক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে একাধিক নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে এবারের বিশ্বকাপে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সেন্সরযুক্ত ম্যাচ বল ‘ত্রিওন্দা’। এই বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার বলের গতি, অবস্থান ও গতিপথ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। এই তথ্য সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠানো হবে, যাতে অফসাইডসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া যায়।
এবারের আসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ত্রিমাত্রিক খেলোয়াড় মডেলও ব্যবহার করা হবে। ফিফা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভোর সহযোগিতায় প্রতিটি খেলোয়াড়ের শরীরের ডিজিটাল থ্রিডি মডেল তৈরি করা হবে, যা মাঠে তাদের গতিবিধি বিশ্লেষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে দর্শকদের জন্য রেফারিদের শরীরে ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যাতে মাঠের ভেতরের খেলা আরও বাস্তবভাবে দেখা যায়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। মেক্সিকোতে পুলিশ রোবট কুকুর ব্যবহার করবে, যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে সরাসরি ভিডিও পাঠাতে সক্ষম হবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।
এছাড়া অফসাইড সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুল করতে উন্নত আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে কয়েক সেন্টিমিটার ব্যবধানেও অফসাইড শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং রেফারির কানে সরাসরি অডিও সংকেত পাঠানো হবে।
খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ম্যাচে নির্ধারিত হাইড্রেশন বিরতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দুই অর্ধে নির্দিষ্ট সময়ে তিন মিনিটের এই বিরতিতে খেলোয়াড়রা পানি পান ও বিশ্রাম নিতে পারবেন।
ফিফার মতে, এসব প্রযুক্তি শুধু ম্যাচ পরিচালনাই নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করে তুলবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ফুটবল ও প্রযুক্তির এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

