সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ
প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের স্বার্থে সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত করা হবে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে সালমান শাহর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের আবেদন জানান।
এরপর সিআইডি তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন তার বাবা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরদিন রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, সালমান শাহর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না এবং ঘটনাটির পেছনে হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
নতুন করে দেহাবশেষ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

