অনলাইন জুয়া ফৌজদারি অপরাধ, সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল: অর্থমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬

ছবি এআই

ডিজিটাল বেটিং ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া–সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন-সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ২০২৬ সালের মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) জমা দেয়। এরই মধ্যে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে সিআইডি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Nagad

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। সেই নির্দেশনায় এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো গ্রাহক বা মার্চেন্ট এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।