জনবলের সীমাবদ্ধতার পরও চিকিৎসক-নার্সরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র সিনেট ভবনে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় উপযুক্ত প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গড়ে প্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দেওয়া একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত কঠিন হলেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

নবজাতকের নিউমোনিয়া চিকিৎসায় দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের ‘বাবল-সিপিএপি’ প্রযুক্তির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, মাত্র ৩০০ টাকার এই প্রযুক্তি নবজাতকের জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের উদ্ভাবন দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

চিকিৎসা সরঞ্জামের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কাঁচি থেকে শুরু করে আধুনিক প্যাথলজি যন্ত্রপাতি—বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদন করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং স্বাস্থ্যখাত আরও স্বনির্ভর হবে।

Nagad

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে দুই ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একটি দুর্গম এলাকার রোগী পরিবহনের জন্য এবং অন্যটি দূরপাল্লার যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার পূর্ণ অর্থায়ন করবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদেরও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ডা. এ কে আজাদ খান, ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ।