১৯ শতাংশ সূচক বৃদ্ধিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পুঁজিবাজারে
দীর্ঘ সময়ের মন্দা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের একাধিক সূচক দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বাজার মূলধন, লেনদেন, শেয়ার হাতবদল, বিদেশি বিনিয়োগ এবং মোবাইল ট্রেডিংয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ডিএসইর প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘মার্কেট সামারি’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক বছরে ৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭৬২ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সূচক বেড়েছে ৯২৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে একই সূচক ৯ দশমিক ২০ শতাংশ কমেছিল।
একই সময়ে ব্লু-চিপ কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৭৮ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ১৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
অর্থবছরে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সব ধরনের সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সরকারি ট্রেজারি বন্ড বাদ দিলে বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।
লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরেছে। ২৩৯ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে ৭২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪৭২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ৫৯ হাজার ৩৩১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন শেয়ারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ব্লক মার্কেটের লেনদেন ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইল ট্রেডিংয়ে লেনদেন প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশই হয়েছে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। তবে নিবন্ধিত মোবাইল ট্রেডিং ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। অর্থবছরে তাদের মোট লেনদেন ৪৯ হাজার ৪৩১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।
অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) ও এসএমই প্ল্যাটফর্মেও লেনদেন বেড়েছে। অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)-এর লেনদেনও ৭৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে কিছু সূচকে নেতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। বাজার মূলধনের সঙ্গে দেশের জিডিপির অনুপাত ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমেছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মোট সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬৫৫ থেকে কমে ৬৪০-এ দাঁড়িয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড ও সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সংখ্যাও কিছুটা কমেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৩৭ ধারা অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর মাধ্যমে জমা দেওয়া করের পরিমাণ ১০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর ১৩৫ ধারা অনুযায়ী পরিশোধিত করের পরিমাণ হয়েছে ৪২ কোটি ২ লাখ টাকা।

