ইরানের তেল বিক্রির ছাড় বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের তেল বিক্রির সাময়িক ছাড়পত্র বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত ২৫ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে গুটিয়ে নিতে হবে। এর আগে এ সময়সীমা ছিল ২১ আগস্ট পর্যন্ত।

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ লেনদেনে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।

তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বেড়েছে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফাও, যা ঋণের সুদের হারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক-১০০ সূচক নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। একটি জাহাজে ড্রোন এবং আরেকটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওমান উপকূলে থাকা আরেকটি জাহাজে আগুন ধরে যায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার আল রেকায়াত-এর ইঞ্জিনে আগুন লাগায় বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এসব হামলার সঙ্গে জড়িত।

Nagad

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের আচরণের ওপরই দুই দেশের সমঝোতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই তেল বিক্রির সাময়িক সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে, যা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়াবে।