মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার নতুন হার নির্ধারণ, ১ জুলাই থেকে কার্যকর
খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার নতুন হার নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত ভাতার হার কার্যকর হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১৫ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসে ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা ২৫ হাজার টাকা করে মূল সম্মানী ভাতা পাবেন। এ ছাড়া জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা বছরে দুটি উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিবার ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের মাসিক মূল সম্মানী ভাতা ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা যুক্ত হয়ে তাদের মাসিক মোট প্রাপ্তি হবে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিবার ৩৩ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ তারা প্রতি মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা পাবেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে পঙ্গুত্বের মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ শ্রেণির (৯৬-১০০ শতাংশ পঙ্গুত্ব) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা চিকিৎসা, খাদ্য ও সহায়ক ভাতাসহ প্রতি মাসে মোট ৪৫ হাজার টাকা পাবেন। ‘বি’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা পাবেন ৩৫ হাজার টাকা, ‘সি’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ৩০ হাজার টাকা এবং ‘ডি’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধারা ২৭ হাজার টাকা।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বছরে দুটি উৎসব ভাতার পরিমাণ হবে তাদের নিজ নিজ মূল ভাতার সমান। পাশাপাশি তারা মহান বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই নতুন ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

