আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টির আভাস, ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহন, জুলই ১৮, ২০২৬

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাই দেশের ছয় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া সুরমা নদীর ছাতক এবং কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও সরিষাবাড়ী পয়েন্টেও পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই। আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

Nagad

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপ দুর্বল হয়ে গেলেও এর প্রভাবে আগামী তিন দিন রংপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২০ থেকে ২২ জুলাই দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।