একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা: রাসায়নিক ব্যবহারের সন্দেহে তদন্তে সিআইডি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪১ পূর্বাহ্, গাস্ট ২৪, ২০২৬

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিহত চারজনের মুখ বীভৎস অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি মরদেহগুলোর মুখের আশপাশে একটি তরল পদার্থ পাওয়া গেছে। এটি কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী।

তিনি বলেন, নিহতদের মুখ প্রাথমিকভাবে বীভৎস অবস্থায় ছিল। মুখের আশপাশে কিছু তরল পদার্থও পাওয়া গেছে। এ কারণে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৬) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। শনিবার রাত সাড়ে ১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রীতিলতা চক্রবর্তী তাঁর ছোট বোনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Nagad

পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে সন্দেহ হয় স্বজনদের। বাড়িতে গিয়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ছাদ ও জানালার মাধ্যমে ভেতরে দেখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র এলোমেলো এবং পচা গন্ধ পাওয়া গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রংপুর মহানগর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে ওই দুই তরুণ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দিলে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাদের চিনে ফেলায় পরিচয় ফাঁসের আশঙ্কা থেকে চারজনকেই হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হত্যার পদ্ধতি এবং নিহতদের মুখের কাছে পাওয়া তরল পদার্থের পরিচয় জানতে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করছে তদন্তকারীরা।