জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবি অল্টারনেটিভসের

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্, গাস্ট ৩০, ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি দাবি করে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব, শ্রম ও শিক্ষা খাতের সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ‘অল্টারনেটিভস’।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক প্রেস মিটে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। প্রেস মিটে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ও অল্টারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-সাংবিধানিক ও রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্য কমানো এবং জুলাই গণহত্যার বিচার। একই সঙ্গে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, কুইক রেন্টাল ও অসম চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের মাধ্যমে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, সুলভে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

Nagad

শ্রম কমিশনের সুপারিশ ও শ্রম আইন ২০২৬ বাস্তবায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-যুবকদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দলীয় পক্ষপাতমুক্ত নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল, জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে অল্টারনেটিভস।

সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করে একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।