তেলের দাম বাড়িয়ে গদি রক্ষা হবে না: গোলাম পরওয়ার

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, ভবিষ্যতে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটে আসতে পারে। তখন সরকার গদি রক্ষা করতে পারবে না।

নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষায় বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সাত মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জামায়াত তাঁর সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিল। ওই সময়ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যর্থতার কারণে সরকার বেকায়দায় পড়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এখন আবার তাঁকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।

সমাবেশে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়েছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে—এমন অভিযোগও করেন জামায়াতের এই নেতা।

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।

Nagad

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে মিছিল বের করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিজয়নগর পর্যন্ত যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।