ডিআইজি পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৫ পূর্বাহ্, অক্টোবর ১০, ২০২৬

নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ এবং বিমানবন্দরে নিজেকে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর হয়েছিল টুটুল চক্রবর্তীর। তবে তিনি ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন ছাড়াই আগাম কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

ওই দিন প্রকৃত পরিচয় গোপন করে নিজেকে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন তিনি। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এর আগেও কয়েকবার নিজেকে ‘ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ’ পরিচয় দিয়ে রাজশাহী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন টুটুল। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। এসব কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, তাঁর এসব কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড অসদাচরণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

Nagad

দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশেও জবাব দেননি

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব দেননি। জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

পরে ২ এপ্রিল অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে ১৬ জুন দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

এরপর অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন বরখাস্তের পক্ষে পরামর্শ দেয়।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী টুটুল চক্রবর্তীকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।