পোশাক খাতের অস্থিরতা নিরসনে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিরসনে করণীয় ঠিক করতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী ও শ্রম উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে রোববার ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার ও গাজীপুরের অন্তত ৮০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাভারে অর্ধশতাধিক এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অন্তত ৩০টি কারখানা রয়েছে।
সকালে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিরপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ায় সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নিয়ে জড়ো হন পোশাকশ্রমিকেরা। একপর্যায়ে সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে স্লোগান দেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকেরা সড়কের পাশের বিভিন্ন দোকান ও যমুনা ব্যাংকের কাচ ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকায় আবারও সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। এ সময় সড়কের ডিভাইডার ভেঙে মূল সড়কে ফেলে রাখা হয় এবং মেট্রোরেলের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে সেটিকেও ধাওয়া করেন আন্দোলনকারীরা। পরে পুলিশ আবারও টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। দুপুর ২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাছের সাংবাদিকদের বলেন, পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের পরও তাঁরা যেভাবে আন্দোলন করেছেন, তাতে শ্রমিকদের মধ্যে একটি গোষ্ঠীর উসকানি থাকার বিষয়টি মনে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং যান চলাচল শুরু হয়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
এদিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দেন। পরে শিল্প পুলিশের অনুরোধে তাঁরা সড়কের এক পাশে সরে যান। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শারমিন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন ও একটি পিকআপভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কালিয়াকৈরের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সকালে উপজেলার রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তাঁরা। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

