দাপুটে ফুটবলে ভুটানকে হারিয়ে সাফ শুরু বাংলাদেশের
একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করে হতাশায় পুড়ছিল বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার থেকে ফরোয়ার্ডে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষ পেয়েছিলেন একাধিক সুযোগ, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নায়ক হন মোহাম্মদ ইব্রাহীম। তাঁর একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আক্রমণে ওঠে বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রাকিব হোসেন। তবে ভুটানের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।
চতুর্থ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ক্রস করেন রাকিব। বিশ্বনাথ ঘোষ লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি। পেছন থেকে পাওয়া ফিরতি বলে শট নেন জামাল ভূঁইয়া। তবে ভুটানের এক ডিফেন্ডার হেডে তা ঠেকিয়ে দেন।
সপ্তম মিনিটে কর্নার থেকে আরও একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। জামালের নেওয়া কর্নার প্রথমে ভুটানের গোলরক্ষক ঠেকান। ফিরতি বলে ফাহিমের প্রথম শট ব্লক হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার জোরালো শট নিলেও ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন ভুটানের গোলরক্ষক।
১৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাড়ানো বলে হেড করেন ফাহিম। বল ধরতে এগিয়ে আসেন ভুটানের গোলরক্ষক। সেই সময় লাফিয়ে উঠে হেড করার চেষ্টা করেন বিশ্বনাথ। তাঁর হেডে বল না লাগলেও গোলরক্ষক বলটি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় দফায় চেষ্টা করেও বল জালে জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
দুই মিনিট পর আবারও সুযোগ আসে। রাকিবের ক্রস থেকে দ্বিতীয় পোস্টে লাফিয়ে হেড করেন বিশ্বনাথ। তবে বল চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।
২৬তম মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। জামালের কর্নার থেকে আসা বলে বক্সে থাকা কোনো ফুটবলারই ঠিকমতো হেড বা ক্লিয়ার করতে পারেননি। পরে বল পেয়ে যান বিশ্বনাথ। ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি।
৩১তম মিনিটে প্রথমবার বাংলাদেশের বক্সে বল নিয়ে ঢোকে ভুটান। তবে বাংলাদেশের রক্ষণে বড় কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি তারা। বল ক্লিয়ার করে দেন জিদান আহমেদরা।
৩৮তম মিনিটে আবারও সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বনাথ। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো থ্রু-বল পেয়ে ফাঁকা জায়গায় এগিয়ে যান তিনি। তবে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শট গোলমুখে রাখতে পারেননি।
দুই মিনিট পর উল্টো গোল হজমের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে থেকে ভুটানের এক ফরোয়ার্ড জোরালো শট নেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্তভাবে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
৪৪তম মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত থেকে জামালের নেওয়া সেটপিসে মাথা ছোঁয়ান সাদ উদ্দীন। বল চলে যায় দূরের পোস্টের দিকে। তবে সেখানে বলের নাগাল পাননি জিদান আহমেদ ও শমিত সোম। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে বাংলাদেশ। ৪৭তম মিনিটে জামালের কর্নার থেকে আবারও সুযোগ আসে। ছয় গজ বক্সে লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার।
খেলার ধারার বিপরীতে ৫৫তম মিনিটে বাংলাদেশকে ভয় পাইয়ে দেয় ভুটান। মাঝমাঠে বল পেয়ে দ্রুত প্রতিআক্রমণে ওঠে তারা। বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় দুবার বাধা দিয়েও ভুটানের আক্রমণ থামাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বক্সের বাইরে জামাল ভূঁইয়া বাধা দেন।
৬০তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে আবারও হানা দেয় ভুটান। কিছুটা ঢিলেঢালা আক্রমণ থেকে বক্সের বাইরে দিয়ে গতিময় শট নিতে চেয়েছিলেন প্রেমা জাঙ্কো। তবে বল কাজেম শাহর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে মাঠের বাইরে চলে যায়।
কয়েক মিনিট ভুটানের আধিপত্যের পর আবারও আক্রমণে ফেরে বাংলাদেশ। ৬৪তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বল পেয়ে বিশ্বনাথ থ্রু-পাস বাড়ান ফাহমিদুল ইসলামের দিকে। বল নিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে বক্সের কাছে গিয়ে শট নেন ফাহমিদুল। তবে তাঁর শট ছিল দুর্বল।
এরপরই ফরোয়ার্ড লাইনে বিশ্বনাথের বদলে মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে মাঠে নামান কোচ টমাস ডুলি। ৬৪তম মিনিটে মাঠে নেমে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন ইব্রাহীম।
৬৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ক্রস করেন রাকিব হোসেন। বক্সে থাকা শমিত সোম হেডে বলটি প্লেস করে দেন ইব্রাহীমের দিকে। সুযোগ বুঝে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ইব্রাহীম। তাঁর গোলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি। এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
গোলের পরও বাংলাদেশ ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে শেষ দিকে আর কোনো নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ ইব্রাহীমের একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ।

