একমি ল্যাবরেটরিজের মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, রেকর্ড ৪০% নগদ লভ্যাংশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহন, নভম্বর ৫, ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রাসায়নিক খাতের কোম্পানি দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। প্রতি বছরই কোম্পানিটির মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ইপিএস করেছে। পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য রেকর্ড ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে ২০২১ সাল থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মৌলিক তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দি একমি ল্যাবরেটরিজের ইপিএস ছিল ৭ টাকা ৪২ পয়সা। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ টাকা ৯৮ পয়সা, ২০২৩ সালে ১০ টাকা ৮৯ পয়সা এবং ২০২৪ সালে ১১ টাকা ৬১ পয়সা।

২০২৫ সালে কোম্পানিটির ইপিএস কিছুটা কমে ১১ টাকা ৪৮ পয়সায় দাঁড়ায়। তবে ২০২৬ সালে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ১২ টাকা ৬৫ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। এটি কোম্পানিটির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ইপিএস।

গত ছয় বছরের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছর ছাড়া প্রতিবছরই কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ইপিএস বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

বেড়েছে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ

Nagad

ইপিএস বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩৯ টাকা ৩৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

৩০ জুন ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৩৭ পয়সা।

রেকর্ড ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ

গত ২৬ অক্টোবর দি একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। একই বৈঠকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এটি কোম্পানিটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ লভ্যাংশ। ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকেই একমি ল্যাবরেটরিজ ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।

তালিকাভুক্তির প্রথম বছরে কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। পরের তিন বছরও একই হারে লভ্যাংশ দেওয়া হয়। ২০২০ সালে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এরপর গত বছর পর্যন্ত কোম্পানিটির ঘোষিত লভ্যাংশ ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে ছিল।

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কোম্পানির মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। এতে কোম্পানি ও পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোম্পানিটির আরও বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মন্দা বাজারে মূলধনী মুনাফার সুযোগ সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে ভালো লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। সেই বিবেচনায় দি একমি ল্যাবরেটরিজের রেকর্ড ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।