ই-স্পোর্টস এখন শুধু খেলা নয়, একটি পেশা-বলছেন খাজা আনাস খান
দেশে ই-স্পোর্টসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্বীকৃতির স্বপ্ন দেখছিলেন প্রযুক্তি পণ্যের ব্র্যান্ড গিগাবাইট-এর কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান। নিজে একজন গেমার, উদ্যোক্তা এবং কমিউনিটি বিল্ডার হিসেবে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে দেশে ই-স্পোর্টস প্রসারে নিরবিচারে কাজ করে আসছেন। আনাস খান জানান-এই স্বীকৃতিকে তিনি দেখছেন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেওয়ার মুহূর্ত হিসেবে।
‘আমি প্রথমে শুকরিয়া আদায় করি,’ কথার শুরুতেই আনাস খান বলেন, অনেকদিন পরে স্পোর্টস গেমারদের জন্য একটা আস্থার জায়গা এসেছে। ২০০৪-০৫ সাল থেকে আমরা ডাব্লিউসিজি (ওয়ার্ল্ড সাইবার গেমস) নিয়ে কাজ করছি। আজ সেই পরিশ্রমের ফসল দেখতে পাচ্ছি।
সরকারি স্বীকৃতি পেতে যে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, সেটিও উঠে এসেছে আনাস খানের কথায়। ‘গেমার, কমিউনিটি, বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, আমরা সবাই অনেকদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছিলাম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এখন প্রয়োজন এর বাস্তবায়ন।’
তিনি মনে করেন, এটা আর শুধু গেম খেলার বিষয় নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প ও পেশা হিসেবে গড়ে তোলার সময় এসেছে। ‘যেহেতু এটি ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃত, তাই জাতীয় পর্যায়ে লিগ আয়োজন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্তি-সবই এখন সময়ের দাবি।’
সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে তিনি ও তার দল প্রস্তুত বলে জানালেন। ‘আমরা সবসময় প্রস্তুত। আমি নিজেও ২০ বছর ধরে কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের ডাকে, আমরা অবশ্যই একসাথে কাজ করব।’
সরকারি কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও তাতে আশাহত নন আনাস খান। ‘ই-স্পোর্টস এখন আর শুধু কম্পিউটার গেম নয়। মোবাইল গেমও এর বড় অংশ। সেই সঙ্গে নেটওয়ার্ক, হার্ডওয়্যার, আইএসপি—সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। টোটাল টেকনোলজি নিয়ে পরিকল্পনা করলেই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।’
ই-স্পোর্টসকে একটি পুরোপুরি পেশা হিসেবে গ্রহণযোগ্য করতে চান আনাস খান। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট, ফুটবলের মতো এটিও একটি পেশা হতে পারে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা ইতোমধ্যে বিদেশে গিয়ে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে। অনেকে গেমিং পেশায় যুক্ত হয়ে ভালো আয় করছে। তাদের তৈরি করতে হবে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আলোর সামনে আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও একজন বাবা। আমার ছেলেকে যদি আমি গেমিংয়ে প্রতিভা দেখি, কেন তাকে সুযোগ দেব না? তবে অবশ্যই পড়াশোনা বাদ দিয়ে নয়। একাডেমিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই এটা হতে হবে।
গিগাবাইটের সাথে ই-স্পোর্টসের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আনাস খানের ভাষায়, ‘গিগাবাইট আজ যেখানে, এর পেছনে গেমারদের সবচেয়ে বড় অবদান। মাদারবোর্ড, গ্রাফিক্স কার্ড, মনিটর—সবকিছু গেমারদের কথা ভেবেই উন্নয়ন করেছি। আমাদের এআই বেজড ল্যাপটপ বা গেমিং মনিটর—সবই এই কমিউনিটির জন্য।’
বাংলাদেশে ই-স্পোর্টসের বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোটও না, আবার অনেক বড় বলেও মনে করি না। এখন যেহেতু সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে এর প্রকৃত পরিসংখ্যান বলা সম্ভব হবে। তবে গেমার সংখ্যা কিন্তু মিলিয়নের কাছাকাছি।’
আনাস খান মনে করেন, এখন আর সময় স্বপ্ন দেখার নয়, বরং স্বপ্ন বাস্তবায়নের। ‘আমরা সবার সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। এটা দলবদ্ধ প্রচেষ্টার ব্যাপার। সবার সহযোগিতা পেলেই বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস একদিন জাতীয় পর্যায়ের গর্বের জায়গায় পৌঁছাবে।’

