হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: চিফ প্রসিকিউটর

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহন, জুলই ১৯, ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি একটি পদ্ধতিগত অপরাধ এবং এটি ছিল ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনারই ধারাবাহিকতায় শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে এ ঘটনায় একটি খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা যায়।

আমিনুল ইসলাম বলেন, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খসড়া প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের কাছে যদি তদন্তের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য বা মতামত থাকে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে না। তবে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, সাবেক বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খসড়া প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।

Nagad

নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে।

এর আগে সকালে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলে আল্লামা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।