অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তবে নিহতের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে স্থানীয়রা ও পুলিশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ছাতিরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কাছুম আলী (৬৫) ছাতিরচর পূর্বপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিএনপির একজন কর্মী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। আহতরা হলেন বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বার ও হিরু মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ছাতিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার যুবদল নেতা জুম্মনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়ে আসছিলেন বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বার ও তার অনুসারীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এরই জেরে শনিবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হামলায় কাছুম আলীর মৃত্যু হয়েছে।
ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নাজমুল ইসলাম বলেন, কাছুম আলী ও রমিজ মেম্বার অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিয়েছিলেন। পরে রাতে তাদের ওপর হামলা হলে কাছুম আলীর মৃত্যু হয় এবং আরও দুজন আহত হন।
তবে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় যুবদল নেতা জুম্মন ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে রমিজ মেম্বারের লোকজনকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে কাছুম আলী অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি বলেন, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি অসুস্থতাজনিত মৃত্যু, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

