চট্টগ্রাম ক্লাবে নিথর দেহে মিললেন সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহন, গাস্ট ৪, ২০২৫

চট্টগ্রামের অভিজাত চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি কক্ষে হঠাৎ করেই থেমে গেল এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনপ্রবাহ। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সেখানে নিথর অবস্থায় পাওয়া গেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশীদ (বীর প্রতীক)-এর মরদেহ।

দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে (২০০০-২০০২)। কূটনৈতিক মিশনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বেও ছিলেন। সমসাময়িক সময়ে আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তার নাম এসেছিল নানা আলোচনায়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকরা ক্লাবে এসে পরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি মামলার কাজে রোববার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম আসেন জেনারেল হারুন। রাত্রিযাপন করছিলেন চট্টগ্রাম ক্লাবে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনি তার কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। বহুবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতরে ঢোকা হয়। তখনই তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জন্মগ্রহণকারী এম হারুন-অর-রশীদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখেন। তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন সেনাপ্রধান হিসেবে।

সামরিক দায়িত্ব ছাড়াও তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিদেশে। বেসামরিক জীবনে এসেও নানা সামাজিক, প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন। ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নাম আসে আলোচনায়, যেখানে তাকে ঘিরে নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।

Nagad

তার মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক—তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানায় পুলিশ। মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশের সামরিক ইতিহাসে নিজের শক্ত অবস্থান রেখে যাওয়া এই সাবেক সেনাপ্রধানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সেনাবাহিনী, প্রশাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা সমাজে।