দীর্ঘ এক যুগ পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে আসার উদ্যোগ
দীর্ঘ এক যুগের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আশাবাদ, চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারে আসবে। আগামী এক বছরের মধ্যে আরও অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে নেওয়া এই পদক্ষেপকে বাজার বিশেষজ্ঞরা যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, উদ্যোগটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং বাজারের গভীরতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), নেসলে বাংলাদেশ, সাইনোভিয়া, নোভার্টিস, সিনজেন্টা, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কর্পোরেশনসহ প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ইতোমধ্যে সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগসকে তালিকাভুক্ত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং তারা বাজারে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে শেয়ারবাজারে মাত্র ২০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে, যা মোট বাজার মূলধনের মাত্র ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১২ সালে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছিল। এর পর নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান না আসায় খাতটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা কাটাতে সহায়ক হবে। তবে শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করলেই হবে না; বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নীতিমালা বাস্তবায়ন ও হয়রানি কমানো জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝাতে হবে, শেয়ারবাজারে আসা তাদের দীর্ঘমেয়াদি সুনাম ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।

