চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, হয়ে যাচ্ছে মবোক্রেসি: সালাহউদ্দিন আহমদ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহন, জুলই ১৭, ২০২৫

‘চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, হয়ে যাচ্ছে মবোক্রেসি’-এভাবেই দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রের জন্য, অথচ আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে জনতার বদলে চলছে উগ্র জনতার শাসন—মবোক্রেসি। যারা গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে, তারা কারা এবং কেন করছে? এ কেন এর জবাব হচ্ছে, সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ব্যর্থতা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততায় সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে যুবদল। ঢাকা ছাড়াও একই দাবিতে সারাদেশে জেলা-মহানগরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল। নয়াপল্টনে সমাবেশ শেষে যুবদল নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন থেকে নাইটিঙ্গেল মোড়-বিজয়নগর-পল্টন-প্রেসক্লাব-কদম ফোয়ারা-মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা প্রত্যাশা করিনি পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির ওপর হামলা করার সাহস পাবে। কিন্তু কেনো হামলা হলো? এই কেনোর জবাব হলো—যারা নতুন রাজনৈতিক দল সংগঠিত করেছে, যাদের এখনও নিবন্ধন নাই, তারা অনেক আবেগতাড়িত হয়ে অপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে। সেইসব রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে আজ দেশের মানুষ অবলোকন করলো গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির ওপর ফ্যাসিস্ট শক্তি হামলে পড়ল। সুতরাং বাবারা, রাজনৈতিক ময়দানে আরও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার জন্য আমরা পরামর্শ সব সময় দিয়েছি, আজও দিচ্ছি। আমরা তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভবিষ্যতে তোমরা অনেক অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, ‘৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর আমরা সবসময় তাদের সফলতা কামনা করেছি, সহযোগিতা করেছি। কিন্তু আজ আমাদের ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদপন্থী মনোভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের পথ তৈরি করছে? কারা চায় বিএনপিকে দুর্বল করে গণআন্দোলন দমন করতে? এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

Nagad

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা নাইটিঙ্গেল মোড়, প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।