৪৪ বছরে হারিয়েছে ৬০% জলাধার, ঢাকায় বেড়েছে ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৫

ঢাকার পরিবেশগত অবক্ষয় এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত চার দশকে রাজধানী শহরটির ৬০ শতাংশ জলাধার হারিয়ে গেছে, সবুজ আচ্ছাদন কমেছে প্রায় অর্ধেকে এবং ভূমির গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক গবেষণায় এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

রোববার (২৭ জুলাই) চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে “প্রকৃতিবিহীন ঢাকা? প্রাকৃতিক অধিকারভিত্তিক টেকসই নগর ভাবনার পুনর্বিচার” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে ১৯৮০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার পরিবেশগত পরিবর্তনের স্যাটেলাইট চিত্র এবং নগর তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম. জাকির হোসেন খান। তার সঙ্গে ছিলেন গবেষক সাবরিন সুলতানা ও মো. ফুয়াদ হাসান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ৬০ শতাংশ জলাধার ইতোমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট জলাধার রয়েছে মাত্র ৪.৮ শতাংশ এলাকায়। একই সঙ্গে সবুজ আচ্ছাদন ২১.৬ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ১১.৬ শতাংশে।

ঢাকার ভূ-উষ্ণতা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে শহরের কোনো অঞ্চল ৩০ ডিগ্রির নিচে নেই। শ্যামপুর, হাজারীবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা ও দারুস সালাম এখন গরমের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ৭ গুণ বেড়েছে। শহরের ৯০ শতাংশ এলাকা এখন কংক্রিটে ঢেকে গেছে। ৫০টি থানার মধ্যে ৩৭টি ইতোমধ্যেই নিরাপদ নির্মাণ সীমা অতিক্রম করেছে। আদাবর, রামপুরা, কাফরুল, বংশাল ও ওয়ারীর মতো এলাকায় গাছপালা প্রায় নেই বললেই চলে।

Nagad

জলাশয় সংকটপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে সূত্রাপুর, মিরপুর, গেন্ডারিয়া ও কাফরুল। ঢাকার মাত্র ৬টি থানা ন্যূনতম জলাধারের মান পূরণ করছে।

প্রতিবেদনটি ঢাকার পরিবেশ সংকটকে শুধু পরিকল্পনার ব্যর্থতা নয়, বরং এটি পরিবেশগত অবিচার ও প্রাকৃতিক অধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান এম. জাকির হোসেন খান বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে ঢাকায় প্রায় ২.৫ কোটি মানুষের বসবাস হবে। এই শহরকে টিকিয়ে রাখতে হলে সিঙ্গাপুর, সিউল বা এমনকি দিল্লি ও জাকার্তার মতো প্রকৃতিনির্ভর পরিকল্পনা নিতে হবে।

সুপারিশ
প্রতিবেদনটিতে পরিবেশ রক্ষায় ১৫টি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রাকৃতিক সম্পদ ভরাটকে অপরাধ হিসেবে আইন প্রণয়ন,
সবুজ অঞ্চলের জন্য জোনিং ও জলাশয় পুনরুদ্ধার,
কংক্রিটের চেয়ে প্রকৃতিবান্ধব অবকাঠামোর কর ছাড়,
গাছপালা ও জলাধারের নির্ধারিত পরিমাণ সংরক্ষণ,
তাপমাত্রা হ্রাসে জলাভূমি পুনরুদ্ধার,
প্রাকৃতিক জবাবদিহির জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা।

গবেষণাটির মূল বার্তা হলো—আমরা যদি প্রকৃতির অধিকার নিশ্চিত না করি, তবে ঢাকায় বসবাস আরও ভয়ানক হয়ে উঠবে। শহরের ফুসফুস বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের বাঁচার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।