যেভাবে ডিউটিরত অবস্থায় হত্যা করা হয় দিদারুলকে, নিউইয়র্কজুড়ে শোক
নিউইয়র্ক সিটির একটি অফিস ভবনে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত হয়েছেন। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের ব্যস্ত পার্ক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ‘৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ’ নামের ৪৪ তলা একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র দিদারুল ইসলামের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বর্ণনায় জানা যায়, একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি থেকে বন্দুকধারী নামার পর এম-৪ রাইফেল হাতে ভবনে প্রবেশ করেন। ঢুকেই লবিতে থাকা দিদারুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। এরপর এক নারীকে পিলারের পেছনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টাকালে গুলি করেন। নিরাপত্তা ডেস্কে থাকা সিকিউরিটি গার্ড এবং লবির আরও এক ব্যক্তিকেও গুলি করেন ওই হামলাকারী।
পরে তিনি লিফট ব্যবহার করে ভবনের ৩৩ তলায় গিয়ে সেখানে এক নারীকে গুলি করে নিজের বুকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।
নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য ও জঘন্য’ উল্লেখ করে বলেন, “দিদারুল ছিলেন এই শহরের প্রকৃত প্রতিনিধি। সৎ, সাহসী এবং নিষ্ঠাবান এই পুলিশ কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।”
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) এক বিবৃতিতে জানায়, দিদারুল দায়িত্ব পালনের সময় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের ‘হিরো’।
২০২১ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়া দিদারুল কর্মরত ছিলেন ব্রঙ্কসের ৪৭ নম্বর প্রিসিঙ্কটে। তার দুই সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের গর্ভবতী। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের তৃতীয় সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, হামলাকারীর নাম শেন তামুরা (২৭)। তিনি লাস ভেগাসের বাসিন্দা এবং তার নেভাডা রাজ্যে অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তার মানসিক সমস্যার অতীত রেকর্ড রয়েছে। তবে তিনি মানসিক সমস্যার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুরো ভবন লকডাউন করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলে। নিউইয়র্কজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআইকেও যুক্ত করা হয়েছে।

