‘দেশ এখন স্থিতিশীল রয়েছে, সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত’

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহন, গাস্ট ২৫, ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংগৃহীত ছবি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর আয়োজন আগামী ফেব্রুয়ারিতে হবে। দেশ এখন স্থিতিশীল রয়েছে, সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সংলাপে তিনি এ কথা জানান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমি এখানে এসেছি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। এক বছর আগে আমরা দেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে ছাত্রদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানে এক হত্যাযজ্ঞের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এখন আমরা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত। আমরা নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছি। এক বছরে দেশ নির্বাচন আয়োজন করার মতো যথেষ্ট প্রস্তুত এবং স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। তাই আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছি।

এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং বৈশ্বিক মঞ্চে এ সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষা ও জাতিগত নির্যাতন থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে।

রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে ৭ দফা প্রস্তাবনা ঘোষণা করে ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সশস্ত্র ঘাতকদের থামানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৭ সালে এবং তারও আগে, সম্পদ এবং সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছিল।

Nagad

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে, যেন আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বলেন, সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তরিক। তবে নতুন করে আর কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রান্তে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বে থাকা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে, যেন নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে না পারে। এরইমধ্যে এটি আমাদের জন্য একটি বড় সংকট।’

সংলাপে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। প্রায় একশ রোহিঙ্গা প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।