প্রথমবার গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের কথা স্বীকার করলো ইসরায়েল
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, তা মোটামুটি সঠিক বলেই তারা মনে করছে।
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আনুমানিক ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর নিহতের মোট সংখ্যা নিয়ে এটিই ইসরায়েলের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। এর আগে ইসরায়েল সরকার ও সেনাবাহিনী কেবল নিহত যোদ্ধাদের সংখ্যা প্রকাশ করত এবং গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানকে ‘হামাসের প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৬০ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া বোমা হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অন্তত ১০ হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের সবাই মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগে দাবি করেছিল, তারা গাজায় ২২ হাজার যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। এমনকি সেনাবাহিনীর একটি গোপন ডেটাবেইস অনুযায়ী বেসামরিক নিহতের হার ছিল প্রায় ৮৩ শতাংশ, যা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আগে দেওয়া ৫০ শতাংশ দাবির চেয়েও অনেক বেশি।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন যোদ্ধা—তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া মোট মৃত্যুর হিসাবকে ‘বৃহৎভাবে সঠিক’ বলেই বিবেচনা করছে। যদিও এক সামরিক মুখপাত্র এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের একটি কমিশন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকরা ইতোমধ্যে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের এই স্বীকারোক্তি দেশটির গাজা অভিযান নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

