যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্, এপ্রিল ১, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪ ডলারের সীমা অতিক্রম করে ৪ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে এএএ। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্য।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারেও।

বর্তমানে অনেক অঙ্গরাজ্যে পেট্রোলের দাম ৪ ডলারেরও বেশি। সরবরাহ ব্যবস্থা ও কর কাঠামোর ভিন্নতার কারণে অঞ্চলভেদে দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

ডিজেলের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র। আগে যেখানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৩ দশমিক ৭৬ ডলার, তা বেড়ে এখন ৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস (ইউপিএস) কিছু সেবায় অতিরিক্ত ৮ শতাংশ চার্জ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।

অর্থনীতিতে প্রভাব

Nagad

জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা চাপে পড়ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সরবরাহ সংকটের কারণ

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে চলমান সংঘাতের কারণে এ পথ দিয়ে ট্যাংকার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ

বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

তবে এসব উদ্যোগের সুফল ভোক্তারা কবে নাগাদ পাবেন, তা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।