ইটভাটার ধোঁয়ায় গাইবান্ধায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভাটার আশপাশের এলাকায় গাছ থেকে ছোট ছোট আম ঝরে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ‘আরবিসি ব্রিকস’ নামের ওই ইটভাটাকে কেন্দ্র করে এ ক্ষতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, গত বছরও একই ভাটার ধোঁয়ায় ফসল ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে হঠাৎ তীব্র গরম ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে দেখা যায়, আশপাশের জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন ধানের ছড়া সাদা হয়ে নষ্ট হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটার উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ আবাদি জমিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম পাশে রয়েছে বসতবাড়ি, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমে বাতাসের সঙ্গে ইটভাটার ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে কাছাকাছি জমির ফসলের এ ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। ক্ষতিপূরণ নিয়ে ভাটার মালিকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধান পাকার ঠিক আগমুহূর্তে এমন ক্ষতি হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বজড়া হলদিয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তার এক বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

Nagad

একই এলাকার জোসনা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ধানের ওপরই আমাদের সংসার চলে। এখন সব নষ্ট হয়ে গেছে, কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’

আরেক কৃষক শরিফা বেগম জানান, তার দুই বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে, যা পুরো মৌসুমের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল।

এ বিষয়ে ইটভাটার মালিক আলতাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: জাগো নিউজ