১৮ জুলাই: শাটডাউনে অচল হয়েছিল দেশ, সংঘর্ষে নিহত হন অন্তত ৩১

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৫ পূর্বাহ্, জুলই ১৮, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

আজ ১৮ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে পালিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে দেশ। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।

শাটডাউন কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।

দিনভর রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, বাড্ডা, নীলক্ষেত, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিন রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া টোল প্লাজা, পুলিশ বক্স, থানা এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে। ঢাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং রাত ৯টার পর দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগও দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়।

সে সময় তৎকালীন সরকার আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে আন্দোলনের সমন্বয়করা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। একই দিন সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। পরদিন গায়েবানা জানাজা ও শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়।

Nagad

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে তা নতুন মোড় নেয়।