শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার মামলায় বাদীর নারাজি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ উল্লেখ করে দেওয়া পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী।

প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে করা এ মামলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আগামী ২০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি বলেন, মামলার বাদী ও তিনজন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে অধিকতর শুনানি হবে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া।

শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

Nagad

পরে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে সানায়া আবারও শাড়িটি ফেরত চান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এরপর ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে ফোন করে মামলা করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন সানায়া।

তবে গত ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সানায়া চৌধুরী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং তানজিন তিশা মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও পুরস্কার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

তদন্তে দুই পক্ষের ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশটও পর্যালোচনা করা হয়। পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চেয়ে সানায়া বার্তা পাঠালেও তানজিন তিশা তা দেখেননি। পরবর্তী সময়ে শাড়িটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে তানজিন তিশার বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, শাড়িটি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে সানায়ার কাছ থেকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন।

পরে মামলার বিষয়টি জানার পর ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান তিশা। গত ৩১ মার্চ ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা ও মনোমালিন্য হয়েছিল। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন।