শরীরে কোলেস্টেরল বেড়েছে কীভাবে বুঝবেন?
কোলেস্টেরল হল এক ধরনের চর্বি, যা শরীরে বিভিন্ন রকম থাকে—ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টেরল। এর মধ্যে এইচডিএল বা উপকারী, বাকি তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
অনেক সময় শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বেড়ে গেলেও কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। দীর্ঘদিন কোলেস্টেরল উচ্চ থাকলেও অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। এটি নির্ণয় করা জরুরি, কারণ উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সম্পর্কিত।
উচ্চ কোলেস্টেরলের সম্ভাব্য লক্ষণ
চোখের পাতায় হলুদাভ ভাব – ব্যথাহীন হলেও চোখের নিচে হলুদাভ চিহ্ন দেখা গেলে তা কোলেস্টেরলের সতর্ক সংকেত হতে পারে।
চোখের মণির চারপাশে ধূসর দাগ – বিশেষ করে ৪০ বছরের পরে চোখের চারপাশে ধূসর গোলাকার দাগ দেখা দিতে পারে।
হৃদযন্ত্রে অক্সিজেন ঘাটতি – উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে রক্তনালীতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা – মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে মাঝে মাঝে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
অতিরিক্ত হৃৎস্পন্দন – সাধারণত ব্যায়াম বা উদ্বিগ্নতার কারণে হয়, তবে উচ্চ কোলেস্টেরলে এটি হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা – ফ্যাটি খাবার বেশি খাওয়া, ফলমূল বা শাকসবজি না খাওয়া, অতিরিক্ত ওজন, অ্যালকোহল সেবন এবং ব্যায়াম না করা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ। পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে।
নির্ণয় ও প্রতিরোধ
কোলেস্টেরলের সুনির্দিষ্ট মাত্রা জানতে খালি পেটে রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা প্রতিবছর অন্তত একবার করা উচিত।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়—
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া
নিয়মিত ব্যায়াম করা
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
মানসিক চাপ কমানো
উচ্চ কোলেস্টেরলকে অবহেলা করলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সমকাল
ডা. সাজেদুর রহমান
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

