ভূরুঙ্গামারীতে শুরু আমন রোপণের ব্যস্ততা, নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শুরু হয়েছে আমন ধান রোপণের ব্যস্ততা। চারা রোপণের উপযোগী বয়স হওয়ায় জমি তৈরি ও রোপণের কাজে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। কেউ কেউ ইতোমধ্যে আমন রোপণ শুরু করে দিয়েছেন, তবে প্রয়োজনীয় বৃষ্টির অভাবে এখনও অনেক জমি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।
কৃষকরা জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জমিতে কিছুটা পানি জমেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হালচাষ, আইল বাঁধা ও জমি সমতল করে চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে সকাল-সন্ধ্যা মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।
তিলাই ইউনিয়নের কইকুড়ি বিলের কৃষক সুবহান ও এরশাদ বলেন, “প্রায় এক মাস আগে বীজতলায় ধান ছিটিয়ে দিয়েছিলাম। এখন সেই চারাগুলো রোপণের উপযোগী হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা মাঠেই কাজ করছি।
পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম ভূষিরভিটা এলাকার কৃষক কুব্বাত আলী বলেন, আমরা পাঁচ বিঘা জমিতে আমন চাষ করবো। তবে জমিতে পানি না থাকায় এখনও চারা রোপণ শুরু করতে পারিনি। দু’এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করবো।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক হাসেম আলী জানান, “তিন বিঘা জমিতে আমন রোপণ করবো। চারা রোপণে দিনমজুর, হালচাষ, সেচ, সার, বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তবে নিজে শ্রম দিলে কিছু লাভ থেকে যায়।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারীর ১০টি ইউনিয়নে এবার ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় চারা রোপণে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল ও স্বল্পমেয়াদি আমন জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রদর্শনী প্লটও স্থাপন করা হয়েছে যাতে কৃষকরা আমন কাটার পর আগাম সরিষা ও সবজি চাষ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ ও উৎসাহ দিচ্ছেন।

